নির্বাচনকালীন সরকারে ‘বিএনপির জায়গা হবে না’

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক টিভি ভাষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বছরের শেষেই নির্বাচন হবে।

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার টিভি ভাষণে যে ‘নির্বাচনকালীন’ সরকারের কথা বলেছেন - তার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার।

“অন্য কিছু না। অন্য দল থেকে লোক নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে এমন কথা প্রধানমন্ত্রী বলেন নি” - বলেছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক টিভি ভাষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বছরের শেষেই নির্বাচন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন,”কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।”

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।

বিএনপি চায় এমন একটি সরকার, যারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলছেন, সেটার রূপ আসলে কী হবে?

এর ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে বর্তমান সরকারকেই বোঝায় ।

“এই সরকার হবে অন্তর্বতীকালীন সরকার - যারা শুধু দৈনন্দিন কাজগুলো করবে।”

মি. আহমেদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী এ নির্বাচন হবে। ২০১৪ সালের আগেও সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, আমি নিজে আগে মন্ত্রী ছিলাম না, তখন হয়েছিলাম। অনেকে আগে মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু তখন বাদ পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরণের সরকারের কথাই উল্লেখ করেছেন।”

নির্বাচনের সময় কি তাহলে এই মন্ত্রিসভাই থাকবে? এ প্রশ্নের জবাবে মি. আহমেদ বলেন, “এই ক্যাবিনেটই থাকবে, হয়তো বড়-ছোট হতে পারে - এই।”

“নির্বাচনকালীন সরকার বলার অর্থ হলো, সংবিধান অনুসারে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তার অধীনেই সাধারণত নির্বাচন হয়ে থাকে। সেটা ভারত বলেন, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র বলেন - সব জায়গাতেই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন হয়।”

এই সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রী এটাই ‘মিন করেছেন’ - বলেন মি. আহমেদ।

বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি যখন নির্বাচনে যোগ দিচ্ছিল না, তখন এক পর্যায়ে বিএনপিসহ অন্যদের মন্ত্রী নিয়ে একটা ক্যাবিনেট হতে পারে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “তখন একটা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই আহ্বান তৎকালীন বিরোধীদল নেত্রী খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।”

“ওই চিন্তাভাবনা এখন আর আমাদের সরকারের নাই। এখন নির্বাচনকালীন সরকার হবে বর্তমান সরকারই।”

সর্বশেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ২১:১৫
বিবিসি বাংলা

পাঠকের মন্তব্য

সর্বশেষ আপডেট


বিনোদন