একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

পাঁচ ঘণ্টার পথ পাড়ি ২৭ ঘণ্টায়, হাতিয়া-চট্টগ্রাম রুটে জাহাজ

জিল্লুর রহমান রাসেল, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: হাতিয়া-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী এমভি মনিরুল হক জাহাজটি সমুদ্রের মাঝে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। এতে ৫ ঘণ্টার পথ পৌঁছতে ২৭ ঘণ্টা লেগে যায়।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এমভি মনিরুল হক জাহাজটি চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কর্ণফুলীর মোহনার কাছে সেটি বিকল হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক সদরঘাট থেকে স্পিডবোটে মেকানিক্স এনে ইঞ্জিনের ত্রুটি সেরে দুপুর সাড়ে ১২টায় যাত্রা শুরু করে।

জাহাজটি যখন গভীর সাগরে তখন ইঞ্জিনটি পুনরায় বিকল হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে উত্তাল ঢেউয়ের ফলে জাহাজটির প্রপেলার ইলিশের জালে পেঁচিয়ে গেলে আরও ২টি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রীরা জানায়, বিকাল ৪টায় জাহাজটি প্রায় সাঙ্গু গ্যাস ফিল্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এ সময় সমুদ্রে ভাসতে থাকা জাহাজের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনকে জানানো হলে বিকল্প জাহাজ এমভি বারআউলিয়া রাত ২টার দিকে সেখানে আসে। কিন্তু সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম সম্ভব হয়নি। পরে ভোরে আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে এমভি বারআউলিয়া দুপুর ১২টায় হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। শেষ হয় দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টার যাত্রা।

নলচিরা ঘাট সূত্রে জানা যায়, বিকল হওয়া মনিরুল হক জাহাজটি কিছুদিন আগে বিআইডব্লিউটিসি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করে। কিন্তু প্রথম সমুদ্রযাত্রাতেই সেটি বিকল হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রী সেবার দায়িত্বে থাকা স্টাফ ফয়সাল মাহমুদ কথা বলতে রাজি হননি। তবে নলচিরা ঘাটের ইজারাদার জাবের মিয়া খোলা কাগজকে জানিয়েছেন, বারবার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমরা বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস খোলা কাগজকে বলেন, গত ঈদে এমভি মনিরুল হক মেরামত করা হয়েছে এটা সত্য। ইঞ্জিনের বিষয় তো, মাঝে মাঝে বিকল হতেই পারে। তবে মেরামতে দুই কোটি টাকার কথা সত্য না। তিনি বলেন, হাতিয়া-চট্টগ্রাম রুটে তিনটি জাহাজ রয়েছে। দুটি নিয়মিত চলাচল করে, আর একটি রিজার্ভ থাকে। এই রুটে শিগগিরই নতুন দুটি জাহাজ চালু হবে, তখন ইঞ্জিন বিকলের মতো ঘটনা ঘটবে না।

সর্বশেষ আপডেট: ৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:৫০
ডেস্ক রিপোর্ট

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন