একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

‘মুক্তনাটক সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলে’

মাহমুদল হক জিহাদ, কলকাতা থেকে : বাংলাদেশের স্বনামধন্য নাট্যকার, নির্দেশক, প্রশিক্ষক, সংগঠক ও অধ্যাপক মলয় ভৌমিক এর লেকচার সেমিনার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নাটক বিভাগের আয়োজনে গত ২০ আগস্ট সোমবার ২০১৮ দুপুর ১.০০টায় বিভাগের অহীন্দ্র মহড়া কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ প্রাণবন্ত এই সেমিনারে বিভাগের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশের নাটকের গতি প্রকৃতি, মুক্তনাটক বিষয়ে নাট্যকাররূপে তাঁর অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি, দর্শন এবং কর্মপ্রক্রিয়া বিশেষভাবে তাঁর “উত্তরখনা” নাটকটি নাটক বিভাগের পাঠ্য হওয়ায় সেটি সম্পর্কিত নানাবিধ প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে আলোচনা আয়োজনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নান্দনিক এই আয়োজনটি সমৃদ্ধ করেছে শিক্ষার্থী ও শ্রোতাদের। বাংলাদেশের মুক্তনাটক ও গ্রাম থিয়েটার সম্পর্কে পথচলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি উপস্থিত ছাত্রদের সাথে সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমরা এক একটা গ্রামে চলে যেতাম কমপক্ষে তিনজন। বাংলাদেশের মুক্তনাটক একেবারে আলাদা বিষয় ছিল।যেখানে কোন স্থানীয় এনজিও এর সংশ্লিষ্টতা নেই।তাঁর মতে, নাটককে যখন অনেক অভিধায় ডাকা হয়, তখন নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয় । এর মধ্যে পড়ে থিয়েটার আসলে কী? সেটাই হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি চাওয়াটাই মুক্তনাটক। আমাদের অতীত দর্শকের সাথে হারানো ঐতিহ্যের উপস্থাপন এ নাটকের প্রধান লক্ষ্য। একসঙ্গে বিশ জনের মত লোককে নিয়ে গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, জেলে ইত্যাদি নানান শ্রেণীর পেশার মানুষকে নাটকে যুক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা উঠে আসতো মুক্তনাটকে। আর এলাকার সমস্যাগুলো নিয়ে স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করার মাধ্যমে বাজার, উঠান, স্কুলমাঠ ইত্যাদি স্থানে নাটক হত। আশির দশকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নাটকের একটা বৈপ্লবিক সময় ছিল। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও রংপুর ইত্যাদি এলাকার মানুষদের যুক্ত করার মাধ্যমে মুক্তনাটক মঞ্চায়ন হত। এ সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও এ নাটকের ব্যাপক ভুমিকা ছিল। বাংলাদেশে মুক্তনাটকের জাতীয় সম্মেলন হয় রাজশাহীতে। মুক্তনাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাটককে চার দেয়াল ও আধুনিক অভিনয় ধারণা থেকে বের করে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা নিয়ে আসেন। এ কাজে সহযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন মামুনুর রশিদ, মান্নান হীরাসহ আরও অনেকে। বাংলাদেশে পথনাটক আন্দোলন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মুক্তনাটক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, মুক্তনাটক সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলে।
মলয় ভৌমিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হলেও তিনি একজন নাট্য ব্যক্তিত্ব হিসাবেই বেশি পরিচিত। এছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
মুক্তনাটকে স্থানীয়রাই অভিনয় করতো। যেখানে আলোর বাহুল্য ও সেটের প্রয়োজন ছিল না। মূলত গ্রামের সমস্যা সমাধানেই ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ নাটকের প্রধান উদ্দেশ্য। নাটক হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।
এছাড়াও অধ্যাপক মলয় ভৌমিক সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁকে ১৯৯২ সালে ঢাকার লোক নাট্যদল নাট্যকর্মী পদক প্রদান করে। ২০০৮ সালে মুনির চৌধুরী সম্মাননা ও ২০০৯ সালে আরণ্যক নাট্যদল কর্তৃক আরণ্যক দীপু স্মৃতি পদক সহ আরও অনেক সম্মাননা প্রাপ্ত হন। ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত বিশ্ব নাট্য দিবসে (২৭ মার্চ) আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে তিনি বক্তৃতা প্রদান করেন।

লেখক :
শিক্ষার্থী; রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা।

সর্বশেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১২:২৫
অনলাইন ডেস্ক

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন