ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা অনেকেই গ্রামেও থাকেন না। মামলায় একজন প্যারালাইসিস রোগীকে আসামি করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। আগুনে যার বাড়ি পুড়েছে তিনি বলছেন,হয়ত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
এ ঘটনায় তাদের কোন অভিযোগ নেই,তারা কোন মামলাও করেনি। মামলায় উল্লেখিত মারামারি ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের কোন সঠিক তথ্যও পাওয়া যায়নি। মামলার বাদী সোনিয়া বেগম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারেননি।
বুধবার সরজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।তারা জানায়,দির্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের মোকবুল হোসেন গ্রুোপ ও আক্তার হোসেনে গ্রুপের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল। তারই জের ধরে অটোটেন্ডে অটোরিকশা সিরিয়াল নিয়ে আক্তার গ্রুপের আমির হামজা ও মোকবুল গ্রুপের রুবেল মিয়ার সাথে হুমকি দামকি তর্কবিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এটাকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধায় মনিপুর বাজারে একটি দোকানে আক্তার ও নাছিরসহ কয়েকজনের উপর হামলা হয়।রক্তান্ত আহত অবস্থায় আক্তার ও নাছিরকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন ডাক্তার।এই ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি আহত নাছির উদ্দীনের ভাই ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ২৪জনসহ অজ্ঞাত নাম আসামি করে মামলা করেন।
অপরদিকে ওই একই দিন ও একই সময় দেখিয়ে ২৪ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা করেন রুবেল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া বেগম। মামলায় ১৭জনকে আসামি করা হয়। মামলায় হামলা,ভাংচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরা হয়। পাল্টা পাল্টি মামলায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোনিয়ার করা এই মামলার অন্যতম আসামি জলিল মিয়া যিনি দীর্ঘ দিন ধরে প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী।তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গত ৫ বছর যাবত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পরে আছি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন,আপনারা আমাকে দেখতে পারছেন বলুন, আমার দ্বারা হামলা,ভাংচুর অগ্নি সংযোগ সম্ভব কিনা ?
নাজমূল হোসেনসহ অনেক আসামি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নীজ কর্মস্থলে থাকেন। নাজমুল হোসেন বলেন,আমরা গ্রামে থাকি না,ঢাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করি,স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস।হয়রানি করার জন্য আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।কিন্তু পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত না করে মামলা এফআইআর করেছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ করেনি।
মামলায় ধীরেন্দ্র দাসের ঘর অগ্নিসংযোগের করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যে বাড়িটি পুড়া গেছে সেটি ওই গ্রামের বুলু ঘোষের বাড়ি। কথা হয় বুলু ঘোষের মেয়ে পিংকি রানী ঘোষের সাথে তিনি বলেন,ধীরেন্দ্র দাস এই গ্রামের বাসিন্দা নয়,তিনি আমাদের এই ঘরে ভাড়া থাকতেন।গত তিন মাস আগে তিনি এই ঘর ছেড়ে চলে গেছেন।গত বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি রাতে এই ঘরে আগুন লাগে।ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আমাদের কোন শত্রু নেই।আমরা কোন অভিযোগ করিনি।
কথা হয় এই মামলার বাদী সোনিয়া বেগমের সাথে তিনি বলেন,’ওই দিন আমার স্বামীকে মারধর করা হয়,আমার ভাসুরের ছেলে হোন্ডা পুড়ানো হয়,চাচা শশুরের বাড়িতে ভাংচুর লুটপাট চালানো হয়, ধীরেন্দ্র দাসের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়’।
আসামি জলিল প্যারালাইসিস রোগী কিভাবে তিনি হামলা ও অগ্নি সংযোগ করলেন? এবং পুড়া বাড়ি ধীরেন্দ্র দাসের নয়, বুলু দাসের বাড়ি।তাদের তো কোন অভিযোগ নেই, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চুপ থাকেন,কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি এবং হোন্ডা পুড়ানো, ভাংচুর, লুটপাট কোন আলামতও তিনি দেখাতে পারেনি।
ওই গ্রামের মেম্বার গফুর মিয়া বলেন,ঘর পুড়ার সাথে হামলার কোন সম্পর্ক নেই,স্রেফ আলাদা একটা দুর্ঘটনা,। মারামারি আগে এই দুর্ঘনাটি ঘটে।এটা একটা মিথ্যা মামলা।
এ ব্যাপারে নবীনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, একটা সংর্ঘষের উভয় পক্ষই ক্ষতি গ্রস্থ হয়,সে ক্ষেত্রে তারা আইনের আশ্রয় চাইলে আমরা সেটা দিব। যে এজাহার দেওয়া হয়েছে সেটাত ফাইনাল নয়।সত্য মিথ্যা এটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। প্রকৃত সত্যটার উপর ভিত্তি করে আদালতে ফাইনাল চার্জশিট দেওয়া হবে।পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশের কড়া নজরধারি রয়েছে ।








পাঠকের মন্তব্য