একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

চলছে মাসব্যাপি জাতীয় বৃক্ষমেলা

বন অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা
বন অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা

ফাহিম ইসলাম: বাংলাদেশ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদপ্তরের আয়োজনে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা। গত ২০ই জুন মেলার উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বেগম শেখ হাসিনা।

এবারে মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ” শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ “। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নার্সারি মালিকরা অংশ নিচ্ছেন এবারের মেলায় । মেলায় দেখা মিলছে দেশী বিদেশী হাজার রকমের উদ্ভিদ।এখনো ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় কম। তবে নার্সারি মালিকরা জানায় ছুটির দিনে ভালোই ভিড় থাকে। এছাড়া প্রত্যেক দিন বিকালে অনেক দর্শনার্থী মেলায় ঘুরতে আসে। মেলায় নানান জাতের দুর্লভ প্রজাতির গাছের দেখা মিলছে এর মধ্যে ঝুমকালতা, বিলাশ চাঁপা প্রভৃতি। মেলার অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্ভিদ গুলোর মধ্যে রয়েছে চাইনিজ বনসাই, জাপানিজ নাকাচুয়া, আমাজনীয় ওয়াটার লিলি ইত্যাদি। ডানকানস অর্কিড নামের একটা স্টলে বিভিন্ন রঙের অর্কিড ফুলের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ফুলের মধ্যে বিভিন্ন রঙের গোলাপ, জবা, বেলী, বকুল, গঁাদা, কাঠ গোলাপ, পলাশ, গন্ধরাজসহ বিভিন্ন রকমের ফুলের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। যা টবে করে বাসার বারান্দায় ও ছাদে লাগানো যায়।

নার্সারি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইনডোর প্ল্যান্ট ও টবের ফুল ও ফলের চাহিদা প্রচুর। ঢাকায় গাছ লাগানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মানুষ টবে করে বাসার বারান্দায় ও ছাদে গাছ লাগাতে চায়। বনানী থেকে আগত ফারহা মাহমুদ জানায়, মেলায় বিভিন্ন রকমের ফুলের গাছ থাকায় নিজের মত করে পছন্দের গাছটি কেনা যায়। ফলদ বৃক্ষের মধ্যে বিভিন্ন প্রাজাতির আম, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, ডালিম ইত্যাদি গাছের প্রচুর চাহিদা আছে এবারের মেলায়। এ ছাড়া দেশি ফলের মধ্যে চালতা, আমলক, বহেরা, আমড়া, লেবু, লটকন আরো বিভিন্ন রকমের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে এবারের মেলায়। বিদেশী ফলের মধ্যে আপেল, বেরী, চেরী, আঙ্গুর, কিউই, পিনাট বাটার, পিঁচ আরো অনেক রকম ফল গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। এছাড়া হাইব্রিড জাতীয় ফলের চারারও অনেক চাহিদা এবারের মেলায়। গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে গাছ লাগানোর টব, কীটনাশক, সার, কোকোডাস্ট ও বিভিন্ন রকমের কৃষজ দ্রব্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায় এবারের মেলায় মোট ১০৫ টি স্টল রয়েছে এর মধ্যে ৮ টি স্টল বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের। বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. শরীফুর জামান জানান , ” ১৯৯৫ সাল থেকে বন অধিদপ্তর এই মেলার আয়োজন করে আসছে। মূলত বর্ষাকাল গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময় বলে প্রতিবছর এই সময়ে মেলার আয়োজন করা হয়”।

এখন পর্যন্ত মেলার বিক্রিত চারার সংখ্যা ৫,৪৬,১৬৪ টি যার বাজার মূল্য ৩,৬৮,৮৫,৮১০ টাকা। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

সর্বশেষ আপডেট: ৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২৪
জিয়া ইসলাম
আলোকচিত্র সাংবাদিক, প্রথম আলো

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন