একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

নদীভাঙা কৃতি সন্তানদের একত্র করার উদ্যোগ লক্ষ্মীপুরে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনার ভাঙনে ক্ষত-বিক্ষত চরকালকিনি ইউনিয়নের কৃতি সন্তানদের একত্র করার উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। আসছে পবিত্র ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারউপজেলার মেঘনাতীরের নাছিরগঞ্জ বাজারে এ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে সবার মাঝে আনন্দোৎসব বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ
করেছে আয়োজকরা। মেঘনার করাল গ্রাসে বিস্তৃর্ণ এ জনপদের মানচিত্র বিলীনের পথে। এ অঞ্চলের বহু সম্ভাবনা মেঘনার
গহীন তলে। এখানের সন্তানরা আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
আয়োজকরা মনে করেন, “মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি—এ তিনটি
জিনিস মানুষের কাছে মহা মূল্যবান। মাতৃভূমি’র মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞানীদের কাজ। নদীভাঙনের পর জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করলেও আমরা জন্মভূমির কথা, মাতৃভূমির মায়া ভুলতে পারি নি। মাতৃভূমি ও জন্মস্থানের প্রতি আমাদের এ দুর্নিবার আকর্ষণ বা ভালোবাসা, ভালো লাগা, গভীর আবেগ-অনুভূতি ও মমত্ববোধকে ছোট করে দেখি না। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা একধরনের পরিশুদ্ধ ভাবাবেগ। যা আমাদের কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বসচেতন
করে তোলে। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার অভাবে মানুষের
মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আমাদের
ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত করে। পারস্পরিক সদাচরণ করতেও
শেখায়। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আমাদের বিভিন্ন প্রতিহিংসার
পরিবর্তে একে অন্যের সহযোগিতা, সহানুভূতি ও পৃষ্ঠপোষকতার
ভাবধারা গড়ে তোলার জন্য পরমতসহিষ্ণুতার শিষ্টাচার তেরি
করবে।” লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ছাত্র
আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, ইনশাআল্লাহ,
আমাদের সকল গ্লানি দূর হবে এবং নতুন প্রাণের সূচনা ঘটবে। নদী
ভাঙনের ঠিকানা হারানোর পর ছন্নভিন্ন হয়ে গেছে আমাদের
ফেভিকলের মতো শক্ত সর্ম্পকগুলো। ছিত্তিচান হয়ে গেছে
আমাদের ভালোবাসার গোডাউন নামক কালকিনি। বর্তমান প্রজন্ম
হারিয়েছে তাদের পূর্বের ঐতিহ্য। শুনেছি অনেকে বসতভিটা ও সর্বস্ব হারানোর শোকে হৃদকম্প হয়ে মারা গেছেন। আমাদের সবার পরিচয় ও ভালোবাসা দৃঢ় হওয়ার জন্য এই মিট-আপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজনের উদোক্তা ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির প্রকল্প
বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহমেদ উল্লাহ সবুজ বলছিলেন, যেখানে
কালকিনির সকল কৃতি সন্তানরা একমঞ্চে একত্রিত হবেন। সবাই
একই প্রাণের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। দুঃখের-সুখের গল্প হবে প্রাণ ভরে। সেখানে আমরা ফিরে পাবো আমাদের অতীত ঐতিহ্য। যা এ
প্রথম। আমাদের প্রয়াস সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি।

সর্বশেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৪
জুনাইদ আল হাবিব
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন