চরফ্যাসনে চাঁদার দাবীতে ইজারাকৃত খেয়া পারাপারে বাধা

চরফ্যাসনে চাঁদার দাবীতে ইজারাকৃত খেয়া পারাপারে বাধা
চরফ্যাসনে চাঁদার দাবীতে ইজারাকৃত খেয়া পারাপারে বাধা

 চরফ্যাসনে চাঁদার দাবীতে ইজারাকৃত খেয়া পারাপারে বাধা

ভোলা: চরফ্যাসনের বেতুয়া নতুন স্লুইজ হতে মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া পর্যন্ত মানুষ যাতায়াতের খেয়া ঘাটটি থেকে মুল মালিকদেরকে উচ্ছেদ করে চাঁদারদাবীর অভিযোগ উঠেছে রুমি, ওবায়েদ, ফারুক খলিফা, জাকির মিজি, আলামিন সিকদার, বাখের সরদারসহতার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। প্রকৃত মালিকদের খেয়া বন্ধ করে দিয়ে ড়োরপূর্বক তাদের খেয়া দিয়ে যাত্রীসহ মালামাল তুলতে বাধ্য করেন তারা। এছাড়াও ইজারাকৃত মূল মালিকরা ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়তে গেলে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হুমকিধামকি অব্যহত রয়েছে। এতে জবর দখলকারীদের এমন হুমকিতে চরম আতংক রয়েছেন ইজারাদারা। ফলে বাধ্য হয়ে ঘাটেই নোঙর করে রাখা হয়েছে তাদের খেয়া পারাপারের লঞ্চগুলো।

ইজারাদারের তদারকিতে দ্বায়িত্বে থাকা মো. শাহিন মহাজন জানান, গত বছরে চরফ্যাসনের বেতুয়া নতুন স্লুইজ হতে মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া পর্যন্ত মানুষ যাতায়াতের খেয়া ঘাটটি নিয়ে হাইকোটে মামলা চলমান থাকার কারনে ইজারা না হওয়ায় জবর দখল কারীরা জোরপূর্বক বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে লঞ্চ সার্ভিস চালু রেখেছেন। এবং মনপুরা থেকে আসা যাওয়ার যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করেছেন। যাত্রীদের সেবার মান চিন্তা করে চলতি বছরে তিনি এবং অপর এক পর্টনার মিলে ভোলা জেলা প্রসাশকের কার্যালয় থেকে তারা খেয়া ঘাটটি ইজারা নিয়ে আসেন। এবং লঞ্চ সার্ভিস চালু করে যাত্রী আনা নেয়া শুরু করেন।

এতেই বিপত্তি শুরু হয় রুমি, ওবায়েদ, ফারুক খলিফা, জাকির মিজি, আলামিন সিকদার, বাখের সরদারসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের। তারা নিজেরদের প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করেন দেন। এবং সার্ভিস চালাতে হলে মোটা অংকের চাঁদাদাবী করেন। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাতে আমাদের লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দিয়ে অন্য একটি সার্ভিস দিয়ে তারা যাত্রী আনা নেয়া শুরু করেন।

এনিয়ে একাধিকবার উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সমোঝতার চেষ্টা করা হলেও কোন সুরাহ মিলেনি। এমতোবস্থায় তারা সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করে খেয়াঘাট ইজারা নিয়েও চাঁদাবাজ চক্রের কবলে পড়ে আটকে আছে তাদের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা। কিন্ত ওই চক্র জবর দখল করে তাদের ইজারাকৃত ঘাটটি দখলে নিয়ে জোড় পূর্বব যাত্রী পারাপার করায় বিপাকে পড়েছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে খেয়া ঘাটটি মুক্ত করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান তিনি।

শাহিন মাহাজন আরো জানান, পহেলা বৈশাখে খেয়া ঘাটটি ইজারা নেয়ার পর তাদেরকে ঘাটটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হলে তার আমার প্রতিনি নিধিকে এক কথায় সাফ জানিয়ে দেন। দল ক্ষমত্যায় থাকালে ঘাট চালতে কোন কাগজ পত্রে প্রয়োজন হয়না। কিসের আবার ইজারা। আপনাদের ইজার কাগজ আপনাদের কাছেই রেখে দেন । কিন্ত ঘাটে আসবেন না।

স্থানীয় বাসিন্ধারা জানান, বিগত দিনে খেয়াঘাটে বৈধ ইজারাদার না থাকার কারনে একটি চক্র বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে জোর জুলম করে খেয়া পরিচালনা করেছেন। এবং যাত্রীদের নানা ভাবে হয়রানী করে আসছিলেন। এখন শুনেছি বৈধ ইজারাদার আছে কিন্তু পূর্বের দূর্বৃত্ত চক্র তাদেরকে খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট দখল দিচ্ছেন। এতে চরম বিপাকে আছেন যাত্রীরা।

মনপুরার যাত্রী ফারহান ইসলাম জানান, নতুন স্লুলিজ থেকে মনপুরা ঘাটে খেয়া পারাপারের জন্য বৈধ ইজারাধার না থাকার কারনে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। মেঘনার মাঝ নদীতে নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে আদায় করা হতো অতিরিক্ত টাকা।

এবিষয়ে রুমি, ওবায়েদ আলামিন সিকদার জানান, আমারা এ রুটে আগে খেয়া দিয়ে যাত্রী পরিবহন করে আসছি। এখনও করছি। আমরা অন্যায় কিছু করছিনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর/ এন

সর্বশেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৯
ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

পাঠকের মন্তব্য

সর্বশেষ আপডেট


বিনোদন