চরফ্যাসনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি স্বর্ণলংকার টাকা লুট, গৃহবধুকে গণধর্ষণ

চরফ্যাসনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি স্বর্ণলংকার টাকা লুট, গৃহবধুকে গণধর্ষণ
চরফ্যাসনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি স্বর্ণলংকার টাকা লুট, গৃহবধুকে গণধর্ষণ

 চরফ্যাসনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি স্বর্ণলংকার টাকা লুট, গৃহবধুকে গণধর্ষণ
ভোলা: চরফ্যাসনে তিন সন্তানের জননী গৃহবধুর ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ ভরি স্বর্ণ ও ৪ লাখ টাকা লুটের পর শয়ন কক্ষে বন্ধি করে গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নুর করিম , হানিফ, নাজমুল নামের তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পরে কক্ষে অবরুদ্ধ গৃহবধুর সন্তানদের চিৎকারে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে শিশু সন্তানরা অবরুদ্ধ অবস্থায় গৃহবধুকে উদ্ধার করেন। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ভিক্টিম গৃহবধু জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভিক্টিম গৃহবধুর বসত ঘরে এঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুর করিম ওই গ্রামের মৃত আবদুল কাদের মাঝি, নাজমুল রাশিদ বেপারীর ছেলে, ও হানিফ আবদুল খালেক মাঝির ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নুর করিম ও তার স্ত্রী পিয়ারা ওই গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারী । ২০২৫ সনের তার স্ত্রী পিয়ারা ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। তাদের বিরুদ্ধে ওই মাদক মামলা দলমান রয়েছে। তাদের মাদক ব্যবসায় বাধা হয়ে দাড়ান ভুক্তভোগী গৃহবধুর পরিবার। এনিয়ে নুর করিমের পরিবারের সাথে তাদের বিরোধ চলমান রয়েছে এমনকি নুর করিম ওই গৃহবধুর পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করতে একাধিক মিথ্যা মামলায় হয়রানী করে আসছিলেন। এবং নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাদেরকে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায় সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন।

ভিক্টিম গৃহবধু জানান, তার স্বামী চট্রগ্রামে কর্মস্থালে থাকেন। তিনি ৩ শিশু সন্তান নিয়ে একাই বাড়িতে থাকেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার তিনি বাড়ি সংলগ্ন স্থানে জমি কেনার টাকা দেয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে বাড়ি ফেরেন। বুধবার সকালে ওই টাকা ভুমি মালিককে দেয়ার কথা ছিলো। মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে তিন সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। ভুল বসত তার সিঁড়ির চিলে কোঠার গেইট খোলা ছিলো। গভীর রাতে তিনি রাত ঘরের মধ্যে কাউকে হাটার শব্দ পেয়ে সজাগ হয়ে যান। এসময় নুর করিম সহ তার সঙ্গীরা তার হাত ও মুখ বেধে পেলে স্বর্ণ ও টাকা কোথায় জানতে চান। তার গোংড়ানীতে শিশু সন্তানরা জেগে উঠলে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা ৪ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ অলংকার লুটে নিয়ে তার শয়ন কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং ঘরের সকল মালামল তছনছ করেন।

পরে সন্তানদেরকে ঘরের অন্য একটি রুমে অবরুদ্ধ করে নুর করিম, হানিফ, নাজমুল মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে ওই চক্র চলে যাওয়ার পর তার শিশু সন্তানরা তাকে তার হাতের বাধন খুলে উদ্ধার করেন। পরে গৃহবধূ ডাক চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। রাতেই বিষয়টি তার স্বামীকে মুঠো ফোনে জানান। এবং পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বররে অবগত করেন। পরে দুপুরে খবর পয়ে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত নুর করিম জানান, তাদের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে ওই রাতে আমার দোকান চুরি হয়েছে। ধর্ষণের বিষয় আমার জানা নাই।
চরফ্যাসন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান,এ বিয়য়ে আমাদের কাছে এখন ও কোন খবর আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

সর্বশেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৪৮
ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

পাঠকের মন্তব্য

সর্বশেষ আপডেট


বিনোদন