একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের ৪০টি পাঠাগার উদ্বোধন

  • দেশ
  • ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৯:৩৯
  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ৫৬৩ বার পঠিত
  • মন্তব্য

‘বই পড়ি পাঠাগার গড়ি’ স্লোগানে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন (জাপাআ) সারাদেশে উদ্বোধন করলো ৪০টি নতুন পাঠাগার। ৫ ফেব্রয়ারি জাতীয় পাঠাগার/গ্রন্থাগার দিবসে রাজধানীর সংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্রে পাঠাগারগুলো উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইস্টিটিউটের সভাপতি ও নাট্যব্যক্তিত্য রামেন্দু মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের অন্যতম উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এমিরেটাস প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ, পরিবেশবিদ আহমদ কামরুজ্জামান।

আয়োজনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৈশোর ও তারুণ্যের বই এবং সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান তুষার আবদুল্লাহ এবং সভাপতিত্ব করেছেন জাপাআ এর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আরিফুল সাজ্জাত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, আগে পাঠাগারে পড়াশুনা হতো। এখন আরো বেশি হচ্ছে। কিন্তু শুনে অবাক হবেন যে, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড়বড় গ্রন্থাগারে সারাদিন পড়ছে আর পড়ছে, তারা শুধু চাকুরির প্রস্তুতির জন্য পাঠাগারে যাচ্ছে। মনের খোরাক কি তারা পাচ্ছে? আমাদের মনের খোরাকওতো দরকার আছে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের উদ্যোগে নির্মিত এই ৪০টি পাঠাগারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করলাম আমি। আপনারা মনে রাখবেন, শুধু পাঠাগারের বই সাজিয়ে রাখলেই হবে না, বইকে ভালোবেসে পড়তে হবে। বইয়ের সাথে আত্মার সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হবে। বক্তব্য শেষে তিনি উদ্বোধন করা পাঠাগারগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে একসেট করে বই ও সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাপাআ এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফ শুভ বলেন, তিনি জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের আদর্শ উদ্দেশ্য, সহযোগিতা এবং কাজ তুলে ধরেন পাঠাগার প্রেমীদের সামনে। তিনি বলেন, জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমী আন্দোলন। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার গড়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্দোলন শুরু হয়। লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম, ফরাশগঞ্জে ‘আলোকিত পাঠাগার’ নামে একটি স্থাপনের মাধ্যমে পাঠাগার গড়ার যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সেদিন, সেটি আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জাপাআ এর কাজ দেখে সরকার জাপাআকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে জাপাআ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৪০টি পাঠাগার উপহার দিলাম আমি। আমার বিশ্বাস, জাপাআ সবার সহযোগিতা পেলে একদিন ঠিকই এই দেশকে ৮৭ হাজার ১ শত ৯১টি পাঠাগার উপহার দিতে পারবো।

সময় টিভির বার্তা প্রধান তুষার আবদুল্লাহ বলেন, পাঠাগার আন্দোলন পাঠাগার গড়ার কাজ করে যাচ্ছে সারাদেশে। আমরাও করে যাচ্ছি স্কুলে স্কুলে বইমেলার আয়োজন। আমাদের কাজের ধরণ ভিন্ন কিন্তু মিলটা হলো বইপড়ার স্রোতকে টিকিয়ে রাখা। শিক্ষার্থীদের শিশুকাল থেকেই বইপড়ার অভ্যাস তৈরি করা। যে সমাজে পাঠাগারই নাই সে সমাজে বইপড়ার উন্মুক্ত চর্চা না থাকারই কথা। তবে পাঠাগার আন্দোলনের যে উদ্দেশ্য সেটি সফল হতে সময় লাগলেও আমার বিশ্বাস তারা থেমে যাবে না। প্রত্যন্ত গ্রামেও বইয়ের কদর আছে। আমরা যখন স্কুলে স্কুলে যাই, তখন আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বইয়ের কদর দেখেছি। আমাদের আরো পড়তে হবে। আমাদের আরো পাঠাগার গড়তে হবে। বিশ্বাস হারালে চলবে না।

শিক্ষাবিদ ফিরোজ আহমেদ বলেন, পাঠাগারের জন্যে আন্দোলন হয় সেটি জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন দেখাচ্ছে। আজকে তারা জাতীয় পাঠাগার দিবসে বাংলাদেশকে ৪০টি পাঠাগার উপহার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কিন্তু একাজ যেন থেমে না যায়।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন সারাদেশে পাঠাগার গড়ার লক্ষ্যে ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারগুলোকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে ১০ টি পাঠাগার উদ্বোধনের মাধ্যমে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই সংগঠনের সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক শিক্ষার্থী কাজ করে যাচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেট: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৯:৫২
ডেস্ক রিপোর্ট

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন