একুশ শতক এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। ফেসবুকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সবুজ উপকূল কর্মসূচিতে কুয়াকাটা সুরক্ষার দাবি পড়ুয়াদের

সবুজ উপকূল কর্মসূচিতে কুয়াকাটা সুরক্ষার দাবি পড়ুয়াদের।
সবুজ উপকূল কর্মসূচিতে কুয়াকাটা সুরক্ষার দাবি পড়ুয়াদের।

কুয়াকাটা, পটুয়াখালী, ৬ আগষ্ট ২০১৮: পর্যটন নগরী কুয়াকাটার বিপন্নতার চিত্র উঠে এলো পড়ুয়াদের লেখায়, বক্তৃতায়। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতবিক্ষত সমুদ্র সৈকতের দিকে নীতিনির্ধারণী মহলের নজর দেওয়ার আহবান জানালো ছোটরা। তাদের কথায় সায় দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। তারা ছোটদের দাবির পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।

সোমবার (৬ আগষ্ট) কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সবুজ উপকূল ২০১৮ কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়ারা কুয়াকাটা সৈকত সুরক্ষার দাবি তোলে। এ কর্মসূচির মধ্যে ছিল সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, গাছের চারা রোপণ, র‌্যালী ও আলোচনা সভা। পড়–য়াদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয় নান্দনিক দেয়াল পত্রিকা ’বেলাভ‚মি’। এতে কুয়াকাটা সৈকতের সমস্যা ছাড়াও নানান অসঙ্গতি তুলে ধরে পড়–য়ারা। সবুজ উপক‚ল কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উপকূল বাঁচাই, সবুজ সুরক্ষা করি।’

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপক‚ল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট সেন্টার। সহযোগীতা করেছে কোস্টাল ইয়ূথ নেটওয়ার্ক-আলোকযাত্রা, মিডিয়া পার্টনার ছিল অনলাইন নিউজপোর্টাল একুশ শতক ও ইউনাইটেডনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাইনুল ইসলাম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মাননু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন কর্মকর্তা (মহিপুর রেঞ্জ) আবুল কালাম আজাদ, কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ শাকায়াত হোসেন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদ, কলাপাড়া রিপোর্টাস ক্লাব সাধারন সম্পাদক সুজন মৃধাসহ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু, আমির হোসেন, আবুল হোসেন রাজু প্রমূখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেয় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ও অভিভাবক ।

বাংলাদেশ বেতার সংবাদাতা রুমান ইমতিয়াজ তুষার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলোয়াত, গীতা পাঠ, ত্রিপিটক পাঠের মধ্যদিয়ে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন ছিলো সৃজনশীল প্রতিযোগীতায় স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের অংকন করা ছবি, সংবাদ লিখন ও রচনা লিখন। প্রতিটি বিষয়ে তিনজন বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হয়। ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ৮ম শ্রেণীর লামিয়া, দ্বিতীয় হয়েছে একই শ্রেণীর সাদিয়া, তৃতীয় হয়েছে এ্যানি নাহার। অপরদিকে সময়োপযোগী বিষয়বস্তু নিয়ে সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ৮ম শ্রেণীর মাইদা আক্তার নিশা, দ্বিতীয় হয়েছে ১০ম শ্রেণীর রাজিয়া আক্তার আদুরি, তৃতীয় হয়েছে ৭ম শ্রেণীর রিয়েল ইমতিয়াজ একান্ত। এছাড়া রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ১০ম শ্রেণীর নুসরাত ইসলাম এলমা, দ্বিতীয় হয়েছে ৯ম শ্রেণীর হনুফা এবং তৃতীয় হয়েছে রাজয়িা আক্তার আদুরী। প্রতিযোগিতায় জমাকৃত বাছাই করা লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয় দেয়াল পত্রিকা বেলাভ‚মি।

গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে গোটা উপকূলকে সবুজ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই এক হয়ে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ছাত্র ছাত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিগন তাদের স্ব স্ব বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। এছাড়া অতিথিরা তাদের বক্তব্যে সবুজ উপকূলের মূল উদ্যোক্তা সিনিয়র সাংবাদিক উপকূল বন্ধু রফিকুল ইসলাম মন্টুকে এ ধরণের কর্মসূচি গ্রহনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, আগামীদিন গুলোতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোন ধরণের অর্থ সহায়তা না মিললেও স্থানীয়ভাবে আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে নিব।

পরে স্কুলের কোস্টাল ইয়ূথ নেটওয়ার্ক- আলোকযাত্রা টিমের সদস্য এবং দল ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ মিলে বিদ্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্টা গাইড, আসিকুর রহমান বনি, শামিম হোসেন, ক্ওাসার, আলোক যাত্রা, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকমন্ডলী।

বিগত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবার উপকূলের ৩০ স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সবুজ উপকূল ২০১৮’ কর্মসূচি। উপকূলীয় ১৩ জেলার ২৩ উপজেলার ১৫০ স্কুলের দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এই নিয়ে চার বছরে এ কর্মসূচির আওতায় এসেছে উপকূলের ১৬ জেলার ২৬ উপজেলার ৪০৫টি স্কুলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী। উপকূলের প্রান্তিক জনপদের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা, লেখালেখির চর্চা এবং সৃজনজশীল মেধার বিকাশ এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

উপকূলের ১৬টি জেলার ২৬টি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। কর্মসূচির আওতায় উপকূল জুড়ে অসংখ্য ভলান্টিয়ার তৈরি হয়েছে। উপকূলের প্রান্তিক জনপদের শিক্ষার্থীদের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোসহ তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ, তথ্য ও জ্ঞান আহরণ এবং লেখালেখির চর্চার মাধ্যমে সামাজিক কাজে উদ্ধুকরণ এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসূচির মধ্যে থাকছে- সৃজনশীল প্রতিযোগিতা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, গাছের চারা রোপণ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ।

সবুজ উপকূল কর্মসূচি শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। প্রথম বছরে ১৫টি স্থানে, দ্বিতীয় বছরে ২৬টি স্থানে এবং তৃতীয় বছরে ২০টি স্থানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের ৩০টি কর্মসূচি নিয়ে চার বছরে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৯১-এ। গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এবার যুক্ত হবে আরও প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী।

সর্বশেষ আপডেট: ৭ আগস্ট ২০১৮, ১০:০১
ডেস্ক রিপোর্ট

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে একুশ শতক

সর্বশেষ আপডেট

বিনোদন