অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল সিলেটে ছুরিকাহত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে মঞ্চের পেছন দিক থেকে এক যুবক এসে জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন। হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, হামলার পরপরই মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ছয়টার দিকে তাঁকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়েছে। এদিকে ৭টা ৫৮ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আহত জাফর ইকবালকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন।

ঢাকা ওসমানী মেডিকেলের উপপরিচালক দেবপদ রায় বলেন, পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না। তাই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালে আনার পরপরই নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, যেহেতু মাথায় আঘাত, তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। মাথা থেকে রক্ত ঝরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জাহিদ হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে ‘ইইই ফেস্টিভ্যাল’ চলছে। আজ ছিল রোবটিক প্রতিযোগিতা। বিকেল পাঁচটার দিকে মঞ্চে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন জাফর ইকবাল। আচমকা এক যুবক মঞ্চের পেছন থেকে এসে জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ তাঁর পাশেই ছিল, কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। তবে জাফর ইকবালের পাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষক এই যুবককে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবককে ধরে পিটুনি দেন। আর শিক্ষকেরা জাফর ইকবালকে মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বর্তমানে ওই যুবককে ক্যাম্পাসে শিক্ষা ভবনের ভেতর রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সেখানে একজন চিকিৎসক গিয়েছেন।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার পরপরই হামলাকারী যুবককে আটক করা হয়। তবে তিনি মরার মতো পড়ে আছেন। কোনো কথারই জবাব দিচ্ছেন না।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, জাফর ইকবালকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশই ওই হামলাকারী যুবককে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে দেয়।

এদিকে শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ বলে স্লোগান দেয়। হাসপাতালেও ভিড় করছেন শিক্ষার্থীরা।

২০১৬ সালের অক্টোবরে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রীকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে একটি সংগঠনের নামে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

মি. ইকবাল এবং তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক এ বিষয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন।

সর্বশেষ আপডেট: ৩ মার্চ ২০১৮, ২১:৩২
ডেস্ক রিপোর্ট

পাঠকের মন্তব্য

সর্বশেষ আপডেট


বিনোদন